ক্রিকেটে বিশ্বের সবথেকে সেরা ওপেনার নির্বাচন নিয়ে সর্বদা বিতর্ক লেগেই থাকে। ভারতের ক্ষেত্রে এই আলোচনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কারণ এই দেশ অনেক নামিদামি ওপেনার ব্যাটসম্যান উপহার দিয়েছে, যেমন- রোহিত শর্মা (Rohit Sharma), বীরেন্দ্র সেহবাগ (Virender Sehwag) এবং শচীন টেন্ডুলকার (Sachin Tendulkar)। নিজেদের যুগে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ভক্তদের মন জয় করে এসেছেন তারা। তবে, এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতীয় দলের তারকা ব্যাটসম্যান শুভমান গিল (Shubman Gill)। তাঁর উত্তর সবাইকে অবাক করে দিয়েছে।
এক মঞ্চে ৩ তারকা, ৩ যুগের আধিপত্য
ওপেনিংয়ের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকার। ধৈর্য, টেকনিক এবং ক্লাস; এই তিনের সমন্বয়ে একজন আদর্শ ওপেনার ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছিলেন শচীন (Sachin Tendulkar)। ওয়ানডে ক্রিকেটে শচীন ভারতকে এক নতুন দিক দেখিয়েছিলেন।
যদিও বীরেন্দ্র সেহবাগ ছিলেন একেবারে তার বিপরীত। প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক, নির্ভীক ব্যাটিং এবং স্পিন-ফাস্ট নির্বিশেষে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন সেহবাগ (Virender Sehwag)। টেস্ট ক্রিকেটে তার ট্রিপল সেঞ্চুরি আজও ইতিহাসের খাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।
এরপর আসেন আধুনিক যুগের ওপেনার নামকরা ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা (Rohit Sharma)। ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ডাবল সেঞ্চুরি গুলি শুধু রেকর্ড নয়, তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ। পাওয়ার-প্লে থেকে ডেথওভার- পুরো ইনিংসে রানের গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আছে রোহিতের মধ্যে।
গিলের চোখে কে সেরা ?

সম্প্রতি একটি প্রেস কনফারেন্সে, শুভমান গিলকে প্রশ্ন করা হয় যে, এই ৩ খেলোয়াড়ের মধ্যে সবথেকে সেরা ওপেনার ব্যাটসম্যান কে? কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কোন ব্যাটসম্যানকেই সেরা হিসেবে নির্বাচিত করেননি শুভমান গিল (Shubman Gill)। সেখানে শুভমান বলেন, প্রত্যেক খেলোয়াড়ই নিজেদের সময়ের শ্রেষ্ঠ ওপেনের ব্যাটসম্যান ছিলেন।
গিলের (Shubman Gill) মতে, শচীন (Sachin Tendulkar) ওপেনিংয়ে এনে দিয়েছেন স্থিরতা, সেহবাগ (Virender Sehwag) দিয়েছেন ভয়হীনতা, আর রোহিত দিয়েছেন ধারাবাহিক বড় ইনিংসের নিশ্চয়তা। তবে এই কনফারেন্সের একটি মুহূর্তে তিনি জানিয়েছেন যে, সাদা বলের ক্রিকেটে রোহিত শর্মাই এগিয়ে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওডিআই ফরম্যাট এবং বড় ICC টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে রান করে চলেছেন রোহিত।
ভবিষ্যতের ওপেনারদের জন্য বার্তা
শুভমান গিলের এই বক্তব্য শুধু তুলনামূলক বিশ্লেষণ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। ক্রিকেটে “সেরা” হওয়া মানে শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং নিজের যুগের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। গিল নিজেও এই ৩ তারকার কাছ থেকে আলাদা আলাদা গুণ শিখতে চান বলে জানান—শচীনের ধৈর্য, সেহবাগের সাহস আর রোহিতের ম্যাচ-অ্যাওয়ারনেস। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ভবিষ্যতে ভারতীয় ওপেনিংয়ে আরও এক নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত তিনি।
