নতুন বছর শুরু হতে না হতেই ভারতীয় ক্রিকেটে বড় সিদ্ধান্তের খবর সামনে এল। ২০২৬ সালের শুরুতেই ভারতীয় মহিলা দল পেতে চলেছে নতুন স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মহিলা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ শেষ হওয়ার পরই ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞ নিকোলাস লি বা নিক লি ভারতীয় মহিলা দলের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও শক্তিশালী ও ফিট দল গড়ার দিকেই নজর দিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড।(BCCI)।
নতুন কোচ নিয়োগে BCCI-এর বড় ভাবনা
গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় মহিলা দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে। বড় টুর্নামেন্টে ভালো ফল, আইপিএল-এর মাধ্যমে প্রতিভা উঠে আসা—সব মিলিয়ে মহিলা ক্রিকেট এখন অনেক বেশি পেশাদার। সেই কারণেই শারীরিক ফিটনেস ও কন্ডিশনিংকে আরও গুরুত্ব দিতে চাইছে বোর্ড। বোর্ডের অন্দরমহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল, এমন একজন কোচ আনা দরকার যাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যিনি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির সঙ্গে কাজ করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটেই নিকোলাস লি-এর নাম উঠে আসে। বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিকের প্রোফাইল খতিয়ে দেখার পরেই তাঁকে এই পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে হয়েছে। ক্রিকেট এবং এলিট স্পোর্টস—দুটো ক্ষেত্রেই তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা ভারতীয় মহিলা দলের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে।
হঠাৎ নিকোলাস লিকেই কেন বেছে নেওয়া হল?
অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ করে কেন নিকোলাস লিকেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতার মধ্যেই। নিক শুধুমাত্র একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার নন, বরং আধুনিক ক্রিকেটে ফিটনেস ট্রেনিং ও পারফরম্যান্স ম্যানেজমেন্ট নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন।
ভারতীয় মহিলা দলের সামনে আগামী দিনে একের পর এক কঠিন সফর ও বড় টুর্নামেন্ট রয়েছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলতে গেলে শারীরিক সক্ষমতা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। বোর্ড মনে করছে, নিকের মতো কোচ এলে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, স্ট্যামিনা ও ইনজুরি ম্যানেজমেন্টে নতুন দিশা পাওয়া যাবে।
WPL-এর পরেই দায়িত্ব নেবেন নিক
জানিয়ে রাখা ভালো, ২০২৬ সালের মহিলা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ শুরু হবে ৯ জানুয়ারি থেকে এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৫ ফেব্রুয়ারি। এই টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরেই ভারতীয় মহিলা দল অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত সেখানে টি-টোয়েন্টি সহ একাধিক সিরিজ রয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগেই দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন নিকোলাস লি। অর্থাৎ, খুব বেশি সময় নষ্ট না করেই তিনি সরাসরি দলের প্রস্তুতির কাজে নেমে পড়বেন। বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের ফিটনেস লেভেল বিশ্লেষণ করে সফরের আগে বিশেষ ট্রেনিং প্রোগ্রাম তৈরি করা হবে।
নিকোলাস লি: ক্রিকেটার থেকে ফিটনেস বিশেষজ্ঞ
নিকোলাস লি-এর ক্রিকেট জীবনের কথা বললে দেখা যাবে, তিনি দীর্ঘদিন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন। যদিও আন্তর্জাতিক স্তরে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি, তবুও ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর অভিজ্ঞতা যথেষ্ট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩টি ম্যাচে তাঁর মোট রান ছিল ৪৯০।
তবে নিকের আসল পরিচয় গড়ে উঠেছে কোচিং এবং ফিটনেস ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে। ক্রিকেট ছাড়াও অন্যান্য এলিট স্পোর্টসে কীভাবে খেলোয়াড়দের শরীর ও মনের যত্ন নিতে হয়, সেই বিষয়ে তাঁর পরিষ্কার ধারণা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আজকের দিনে একজন চাহিদাসম্পন্ন স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচে পরিণত করেছে।
আন্তর্জাতিক স্তরে নিকের কোচিং অভিজ্ঞতা
নিকোলাস লি-এর কোচিং কেরিয়ার যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। সেই সময়ে আফগান দলের ফিটনেস ও মাঠে টিকে থাকার ক্ষমতায় স্পষ্ট উন্নতি দেখা গিয়েছিল।
এর আগে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের শারীরিক পারফরম্যান্স প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে বাংলাদেশ দলের ফিটনেস স্ট্রাকচার নতুনভাবে সাজানো হয়েছিল বলে মনে করেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতে গাল্ফ জায়ান্টস দলের সঙ্গেও কাজ করেছেন নিক। এছাড়াও ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে সাসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ভারতীয় মহিলা দলের জন্য কী বদল আনতে পারেন নিক?
ভারতীয় মহিলা দলের খেলোয়াড়রা বর্তমানে প্রতিভা ও স্কিলের দিক থেকে কোনও অংশে কম নয়। তবে দীর্ঘ টুর্নামেন্ট, ব্যাক-টু-ব্যাক সিরিজ এবং বিদেশ সফরে ফিটনেস ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নিকোলাস লি এই জায়গাতেই পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।
ফিটনেস মানে শুধু জিমে ঘাম ঝরানো নয়। ইনজুরি প্রতিরোধ, দ্রুত রিকভারি, ম্যাচের চাপ সামলানো—সব মিলিয়েই আধুনিক স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচের ভূমিকা। বোর্ড আশা করছে, নিকের হাত ধরে ভারতীয় মহিলা দল আরও বেশি ম্যাচ ফিট থাকবে এবং বড় টুর্নামেন্টে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার শক্তি পাবে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বড় পদক্ষেপ
২০২৬ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক বছর ভারতীয় মহিলা দলের সামনে একাধিক আইসিসি টুর্নামেন্ট রয়েছে। বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—সব ক্ষেত্রেই লক্ষ্য থাকবে শিরোপা জয়। সেই লক্ষ্য পূরণে শুধু ব্যাট-বল নয়, ফিটনেসকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বোর্ড।
নিকোলাস লি-এর নিয়োগ সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই অংশ। সময়ই বলবে এই সিদ্ধান্ত কতটা সফল হয়। তবে আপাতত ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে এটি যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তা বলাই যায়।
Disclaimer
এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য বিভিন্ন সংবাদসূত্র ও বোর্ড-ঘনিষ্ঠ সূত্রের উপর ভিত্তি করে লেখা। ভবিষ্যতে নিয়োগ বা সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। চূড়ান্ত ও অফিসিয়াল আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডের ঘোষণার উপর নির্ভর করা উচিত।
FAQ
প্রশ্ন: নিকোলাস লি কবে ভারতীয় মহিলা দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন?
উত্তর: ২০২৬ সালের মহিলা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ শেষ হওয়ার পরই তিনি দায়িত্ব নেওয়ার কথা।
প্রশ্ন: নিকোলাস লি কোন পদের কোচ হবেন?
উত্তর: তিনি ভারতীয় মহিলা দলের স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হবেন।
প্রশ্ন: এর আগে নিকোলাস লি কোন কোন দলের সঙ্গে কাজ করেছেন?
উত্তর: তিনি আফগানিস্তান জাতীয় দল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, সাসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব এবং গাল্ফ জায়ান্টসের সঙ্গে কাজ করেছেন।
প্রশ্ন: এই নিয়োগে ভারতীয় মহিলা দল কী সুবিধা পেতে পারে?
উত্তর: ফিটনেস, ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট এবং দীর্ঘ টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে উন্নতি আশা করা হচ্ছে।
অবশ্যই পড়ুন: T20 বিশ্বকাপের আগেই বড় ধাক্কা খেলো অস্ট্রেলিয়া, অ্যাশেজ চলাকালীন সব ফরম্যাট থেকে অবসর ঘোষণা করলেন এই তারকা খেলোয়াড় !!
