অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একদিনের সিরিজ চলাকালীন চোট পেয়ে গুরুতর সমস্যায় পড়েছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। সিডনির মাঠে চোট পাওয়ার পরই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক দিন আইসিইউয়ে রেখে চিকিৎসা করা হয় এবং প্লীহায় (spleen) সৃষ্ট ক্ষত সারাতে ছোট অস্ত্রোপচারও করতে হয়। দেশে ফেরার পর অবশ্য অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে, কিন্তু এখনই ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন না তিনি। বিসিসিআই মেডিক্যাল টিম জানিয়ে দিয়েছে—শরীরে এখনও পর্যাপ্ত শক্তি ফিরে আসেনি, তাই ভারী অনুশীলন বা মাঠে নামা একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ।
২৫ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তৃতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমে যে ধাক্কাটি তিনি খেয়েছিলেন, সেটি প্রত্যাশার থেকেও বেশি জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি তাঁর পেটের আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করা হয়। রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন—অভ্যন্তরীণ আঘাত পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। এই অবস্থায় দৌড়ঝাঁপ, জিম বা যে কোনও ধরনের চাপের কাজ করলে পরিস্থিতি আবার খারাপের দিকে যেতে পারে। তাই তাঁকে আরও কয়েক সপ্তাহ সম্পূর্ণ সতর্ক থাকতে হবে।
বিসিসিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রেয়সের রিহ্যাবিলিটেশন প্রক্রিয়া চলবে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে। সেখানে বিশেষজ্ঞ ফিজিও ও ট্রেনাররা ধাপে ধাপে তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। দুই মাস পর আবার এক দফা পরীক্ষা হবে। সেই রিপোর্ট সন্তোষজনক হলে ধীরে ধীরে ফিটনেস ট্রেনিং শুরু করবেন শ্রেয়স। সম্পূর্ণভাবে ম্যাচ-ফিট হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
সব মিলিয়ে, শ্রেয়সের সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে প্রায় ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আসন্ন একদিনের সিরিজে তাঁর খেলা কার্যত অসম্ভব। শুধু তাই নয়, এরপর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে যে সাদা বলের সিরিজ রয়েছে, সেখানেও শ্রেয়সকে পাওয়া যাবে না বলেই ধারণা।
ভারতীয় দলের মধ্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে শ্রেয়সের অনুপস্থিতি অবশ্যই চিন্তার বিষয়। তবে বোর্ডের চিকিৎসকদের মতে, তাড়াহুড়ো করলে ভবিষ্যতে আরও বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আপাতত প্রথম লক্ষ্য—শরীরকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা। সময় মতো রিহ্যাব ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে সব ঠিক থাকলে, আগামী বছরই আবার নীল জার্সিতে দেখা মিলবে শ্রেয়স আইয়ারের।
