Rohit Sharma: ভারতীয় ক্রিকেটে ফিটনেসের মানদণ্ড দিনে দিনে বদলাচ্ছে। একসময় যেখানে ইয়ো-ইয়ো টেস্ট (Yo-Yo Test) ফিটনেস যাচাইয়ের প্রধান মাধ্যম ছিল, এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২-কিলোমিটার টাইম ট্রায়াল। আর এবার হেড কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) এবং স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ আদ্রিয়ান লে রক্স (Adrian le Roux) এনেছেন একেবারে নতুন ফিটনেস মাপকাঠি – ব্রঙ্কো টেস্ট (Bronco Test)।
এটি শুধু নতুন ফিটনেস পরীক্ষা নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা। বিশেষ করে ফাস্ট বোলার ও তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এই টেস্ট হতে চলেছে বড় চ্যালেঞ্জ।
ব্রঙ্কো টেস্ট আসলে কী?
ব্রঙ্কো টেস্ট মূলত নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার রাগবি খেলায় বহুল প্রচলিত একটি ফিটনেস পরীক্ষা। এখন তা ফুটবল এবং ক্রিকেটেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
- এতে খেলোয়াড়কে ২০, ৪০ এবং ৬০ মিটার দূরত্ব বারবার দৌড়াতে হয়।
- একটি সেটে এই তিনটি দূরত্ব শেষ করতে হয়।
- বিশ্রাম ছাড়া টানা পাঁচ সেট করতে হয়, মোট দূরত্ব দাঁড়ায় ১২০০ মিটার।
- সময়সীমা: ছয় মিনিট।
এটি মূলত একজন খেলোয়াড়ের অ্যারোবিক সহনশীলতা, কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস এবং গতি নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা যাচাই করে।
কেন ব্রঙ্কো টেস্ট চালু হলো ভারতীয় দলে?
ভারতীয় দলে বরাবরই ফিটনেস টেস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- একসময় বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ইয়ো-ইয়ো টেস্ট বাধ্যতামূলক হয়েছিল।
- এখন গৌতম গম্ভীরের অধীনে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে এনডিউরেন্স-ফোকাসড মেট্রিক্স চালু হচ্ছে।
- বিশেষ করে ফাস্ট বোলিং ইউনিটে দীর্ঘ সময় ধরে একই গতি বজায় রাখা ও আঘাত এড়াতে এই টেস্ট অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এক সর্বভারতীয় মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই কয়েকজন ভারতীয় ক্রিকেটার বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে এই পরীক্ষা দিয়েছেন।
রোহিত শর্মা- বিরাট কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা
🔹 বিরাট কোহলি
বিরাট কোহলি ফিটনেসে বরাবরই উদাহরণ। ইয়ো-ইয়ো টেস্টকে জনপ্রিয় করেছিলেন তিনিই। ফলে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর খেলা নিয়ে বিশেষ প্রশ্ন ওঠেনি। মনোজ তিওয়ারি পর্যন্ত বলেছেন – “বিরাটকে বাইরে রাখা সহজ হবে না।”
🔹 রোহিত শর্মা
কিন্তু রোহিত শর্মার ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন।
- বর্তমানে তিনি কেবলমাত্র ওডিআই খেলেন।
- টেস্ট ও টি-২০ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
- বয়স এবং শারীরিক গঠন বিবেচনা করলে ব্রঙ্কো টেস্ট তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
মনোজ তিওয়ারি মনে করছেন – “রোহিত যদি কড়া পরিশ্রম না করেন, তাহলে ব্রঙ্কো টেস্টই তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ করে দিতে পারে।”
ব্রঙ্কো টেস্ট নিয়ে বিতর্ক
প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন তুলেছেন –
- এখন কেন এই টেস্ট চালু হলো?
- নতুন হেড কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কেন শুরু হয়নি?
- এর লক্ষ্য কি নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে দলে রাখার বা বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত?
এই প্রশ্নগুলিই এখন ক্রিকেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বিরাট-রোহিত কি আর ফিরবেন?
সম্প্রতি একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, আসন্ন অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরেই শেষবার নীল জার্সিতে দেখা যাবে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে (Rohit Sharma)। তাঁদের হয়তো আর ২০২৭ বিশ্বকাপে দেখা যাবে না। যদিও অফিসিয়ালি এখনও কিছু ঘোষণা হয়নি, তবে ব্রঙ্কো টেস্ট চালু হওয়ায় গুঞ্জন আরও বেড়েছে।
ভারতীয় ক্রিকেটে ব্রঙ্কো টেস্ট চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় পরিবর্তন। এটি শুধু একটি ফিটনেস টেস্ট নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য খেলোয়াড় বাছাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। বিরাট কোহলি হয়তো সহজেই এটি পার করবেন, কিন্তু রোহিত শর্মার কেরিয়ার নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই পরীক্ষায় কারা সফল হন এবং কারা পিছিয়ে পড়েন।
📌 FAQ (প্রশ্নোত্তর)
প্রশ্ন ১: ব্রঙ্কো টেস্ট কী?
উত্তর: ব্রঙ্কো টেস্ট হলো একটি ফিটনেস পরীক্ষা যেখানে ২০, ৪০ ও ৬০ মিটার শাটল রান বারবার করে ১২০০ মিটার ছয় মিনিটে শেষ করতে হয়।
প্রশ্ন ২: কেন ভারতীয় দলে ব্রঙ্কো টেস্ট চালু হলো?
উত্তর: খেলোয়াড়দের অ্যারোবিক ফিটনেস, সহনশীলতা ও স্ট্যামিনা যাচাই করার জন্য।
প্রশ্ন ৩: বিরাট কোহলি কি ২০২৭ বিশ্বকাপ খেলবেন?
উত্তর: ফিটনেস ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় বিরাটকে বাদ দেওয়া কঠিন।
প্রশ্ন ৪: রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) কি ব্রঙ্কো টেস্ট পাস করতে পারবেন?
উত্তর: বিতর্ক আছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন তাঁর জন্য এটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে।
প্রশ্ন ৫: ব্রঙ্কো টেস্টের আগে কোন ফিটনেস টেস্ট ছিল?
উত্তর: ইয়ো-ইয়ো টেস্ট এবং ২ কিলোমিটার টাইম ট্রায়াল।
