২০২৫ সালের আইপিএলে অবশেষে বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। বিরাট কোহলি, ক্রুনাল পান্ডিয়া, রজত পতিদারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আরসিবি ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংসকে পরাজিত করে ঐতিহাসিক শিরোপা জেতে। বছরের পর বছর “ইয়ে সালা কাপ নামদে” স্লোগান অবশেষে বাস্তবে রূপ নেয়, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে বেঙ্গালুরু শহর। এই জয়ে আরসিবি শুধু তাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষ করেনি, বরং আইপিএল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ও রচনা করেছে। দলের এই জয়কে ফ্যানরা “স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২০২৫ সালে আইপিএলে ঐতিহাসিক প্রথম শিরোপা জয়ের পর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) ঘিরে এবার বড় কর্পোরেট খবর সামনে এসেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিক বহুজাতিক অ্যালকোহল প্রস্তুতকারক সংস্থা ডিয়াজিও তাদের অংশীদারিত্ব বিক্রির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। বুধবার ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক SEBI-র কাছে জমা দেওয়া এক নথিতে ডিয়াজিও জানিয়েছে, তারা আরসিবি-তে বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি “কৌশলগত পর্যালোচনা” শুরু করেছে, যা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিক্রির পথে RCB ব্রিগেড
ডিয়াজিও বর্তমানে পুরুষ ও মহিলা উভয় দলের মালিক, যার নিয়ন্ত্রণ তাদের সহযোগী সংস্থা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স স্পোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড (RCSPL)-এর হাতে। উল্লেখ্য, এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে ইউনাইটেড স্পিরিটস লিমিটেড (USL)-এর মালিকানাধীন, আর USL নিজেই ডিয়াজিওর একটি সহায়ক সংস্থা। অর্থাৎ, আরসিবি-র মালিকানা কাঠামো পুরোপুরি ডিয়াজিওর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইউনাইটেড স্পিরিটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও প্রবীণ সোমেশ্বর জানিয়েছেন, “RCSPL আমাদের জন্য একটি মূল্যবান এবং কৌশলগত সম্পদ হলেও, এটি আমাদের মূল ব্যবসা—অ্যালকোহল ও পানীয় উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য নয়। এই পদক্ষেপ আমাদের ভারতীয় বিনিয়োগ পোর্টফোলিও আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে স্টেকহোল্ডারদের সর্বোচ্চ মূল্য নিশ্চিত করা যায়।”
ডিয়াজিওর এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা হয়তো আগামী মরশুমের আগেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মালিকানায় আংশিক বা সম্পূর্ণ বিক্রির রাস্তা খুলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজয়ের পর ব্র্যান্ড মূল্যের শীর্ষে থাকা আরসিবি এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় দল, এবং ডিয়াজিওর এই পদক্ষেপ আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি বাজারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
