ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে যখন টেস্ট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে তরুণ ব্যাটসম্যান শুভমান গিলের (Shubman Gill) হাতে। বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অবসরের পরে এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন গিল। তবে এই সিদ্ধান্তে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja) সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন তাঁর আক্ষেপ ও অধিনায়ক হওয়ার ইচ্ছা।
টেস্ট অধিনায়কত্বে শুভমান গিল: বিসিসিআইয়ের সাহসী পদক্ষেপ
বিসিসিআই (BCCI) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেবেন শুভমান গিল। দীর্ঘদিন ধরে টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গিল নির্বাচকদের বিশ্বাস অর্জন করেছেন। আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের (Gujarat Titans) হয়ে সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার পর, তার ঠান্ডা মাথা ও খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার ক্ষমতা নির্বাচকদের নজর কেড়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩২টি টেস্টে ১৮৯৩ রান করা গিল ভারতীয় দলের ভবিষ্যতের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
রবীন্দ্র জাদেজার আক্ষেপ: অধিনায়কত্ব নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য
শুভমান গিলের অধিনায়কত্ব ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja) নিজের মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “অবসর নেওয়ার আগে অন্তত একবার আমি টেস্ট দলের অধিনায়ক হতে চাই। বছরের পর বছর ধরে আমি বিভিন্ন অধিনায়কের অধীনে খেলেছি। আমি যাদের অধীনে খেলেছি তাদের প্রত্যেকের মানসিকতা আমি জানি। ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড়দের কী প্রয়োজন সেই মানসিকতাও আমি বুঝতে পারি।” এই বক্তব্য রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উঠে আসে।
এই মন্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। অনেকেই মনে করেন, জাদেজার (Ravindra Jadeja) মতো অভিজ্ঞ একজন অলরাউন্ডার, যিনি ৮০টি টেস্টে ৩৩৭০ রান ও ৩২৩টি উইকেট নিয়েছেন, তিনি অধিনায়কত্ব পাওয়ার জন্য যোগ্য।
অভিজ্ঞতার অভাবের প্রশ্নে বিতর্ক
রবীন্দ্র জাদেজার (Ravindra Jadeja) মন্তব্যের পর অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুভমান গিল টেস্টে সফল হলেও অধিনায়ক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা সীমিত। অন্যদিকে জাদেজা অনেক দিন ধরেই জাতীয় দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং কৌশলগত দিক থেকে পরিপক্ক। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিসিসিআই কি অভিজ্ঞতার চেয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে?
ইংল্যান্ড সফরের চ্যালেঞ্জ
ভারতীয় দল আগামী মাসে ইংল্যান্ড সফরে যাচ্ছে ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে। এটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) নতুন চক্রের সূচনা হবে ভারতের জন্য। কোহলি ও রোহিতের অবসরের পর নতুন নেতৃত্বে এই সিরিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জেতা চিরকালই কঠিন চ্যালেঞ্জ। গত কয়েক বছরে ভারতীয় দল অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে পরাজিত হয়েছে। ফলে নতুন নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ানোর চাপ থাকবে শুভমান গিলের কাঁধে।
ভারতের সম্ভাব্য শক্তি ও দুর্বলতা
ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপে অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশেল দেখা যাচ্ছে। যশস্বী জয়সওয়াল, সাই সুদর্শন, এবং অভিমন্যু ইশ্বরনের মতো তরুণরা থাকলেও দলে রয়েছেন করুন নায়ার ও কেএল রাহুলের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। অলরাউন্ড বিভাগে রবীন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বোলিং আক্রমণে থাকছেন বুমরাহ, সিরাজ, আর্শদীপ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ও কুলদীপ যাদবের মতো বোলাররা। তবে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে পেস বোলিংয়ের দিকটা ভালোভাবে সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
ভারতীয় স্কোয়াড বনাম ইংল্যান্ড:
- শুভমান গিল (অধিনায়ক)
- ঋষভ পান্থ (সহ অধিনায়ক ও উইকেটকিপার)
- যশস্বী জয়সওয়াল
- কেএল রাহুল
- সাই সুদর্শন
- অভিমন্যু ইশ্বরন
- করুন নায়ার
- নীতিশ কুমার রেড্ডি
- রবীন্দ্র জাদেজা
- ধ্রুব জুরেল (উইকেটকিপার)
- ওয়াশিংটন সুন্দর
- শার্দুল ঠাকুর
- জসপ্রীত বুমরাহ
- মহম্মদ সিরাজ
- প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা
- আকাশ দীপ
- আর্শদীপ সিং
- কুলদীপ যাদব
শুভমান গিলের অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেটে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেখানে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ প্রতিভাদের নেতৃত্বে তুলে আনা হচ্ছে। তবে জাদেজার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মানসিকতা এবং চাওয়াগুলিও বিসিসিআইকে গুরুত্ব দিতে হবে। দলগত সমন্বয় বজায় রেখে সঠিক ভারসাম্য তৈরি করা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। এখন দেখার, ইংল্যান্ড সফরে শুভমান গিল তাঁর নেতৃত্বে ভারতকে কেমন সাফল্য এনে দেন এবং জাদেজার মতো খেলোয়াড়দের দল কীভাবে কাজে লাগায়।
