কার্লসেনকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন গুকেশ! রাগে টেবিল ভাঙলেন বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ু!

নরওয়ে চেস ২০২৫-এ এক নাটকীয় দৃশ্যে ইতিহাস গড়লেন ভারতের ১৮ বছর বয়সি গ্র্যান্ডমাস্টার ডি গুকেশ (D Gukesh)। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই তরুণ দাবাড়ু ম্যাচের শেষভাগে স্পষ্ট পরাজয়ের…

Norway Chess 2025

নরওয়ে চেস ২০২৫-এ এক নাটকীয় দৃশ্যে ইতিহাস গড়লেন ভারতের ১৮ বছর বয়সি গ্র্যান্ডমাস্টার ডি গুকেশ (D Gukesh)। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই তরুণ দাবাড়ু ম্যাচের শেষভাগে স্পষ্ট পরাজয়ের মুখে ছিলেন। কিন্তু এক অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোয়, নরওয়ের বিশ্বনম্বর এক দাবাড়ু ম্যাগনাস কার্লসেনের (Magnus Carlsen) এক মারাত্মক ভুলকে কাজে লাগিয়ে গুকেশ তার প্রথম ক্লাসিক্যাল জয় তুলে নিলেন এই কিংবদন্তির বিরুদ্ধে। দাবাজগতের অনেকেই একে বলছেন – “টার্নঅ্যারাউন্ড অব দ্য ইয়ার”

ম্যাচের বিশ্লেষণ: কার্লসেনের আধিপত্য থেকে গুকেশের কামব্যাক

ম্যাচের শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছিল ম্যাগনাস কার্লসেন অত্যন্ত স্বচ্ছন্দে খেলছেন। ওপেনিং এবং মিডল গেমে গুকেশ কিছুটা চাপে ছিলেন এবং পজিশন ধীরে ধীরে অসুবিধাজনক হয়ে উঠছিল। এমন সময় অনেকেই মনে করছিলেন – নরওয়েজিয়ান গ্র্যান্ডমাস্টার এই ম্যাচেও জয় পাবেন, ঠিক যেমনটি তিনি করেছিলেন প্রথম রাউন্ডে।

অবশ্যই দেখবেন: KKR তাঁকে তুচ্ছ করেছিল, ১১ বছর পর PBKS-কে IPL ফাইনালে তুললেন শ্রেয়স! ইতিহাসের নতুন অধ্যায়

কিন্তু ম্যাচের ৬২তম চালের দিকে এসে চিত্রপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। কার্লসেন একটি ব্লান্ডার করে বসেন, যার সুযোগ নিয়ে গুকেশ চমকে দেন সবাইকে। এক মুহূর্তেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে ভারতীয় খেলোয়াড়ের হাতে। গুকেশ ঠাণ্ডা মাথায় পরবর্তী চালগুলো চালিয়ে ম্যাচ জয় নিশ্চিত করেন।

গুগল ট্রেন্ডিং কিওয়ার্ডে ভাইরাল: “Gukesh vs Carlsen”, “Norway Chess 2025”, “Gukesh Comeback”, “Carlsen blunder”, “Indian GM Gukesh”

এই ম্যাচের ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। ইউটিউব, এক্স (প্রাক্তন টুইটার), ইনস্টাগ্রামে লাখ লাখ দর্শক দেখে ফেলেছেন গুকেশের ঐতিহাসিক জয়। বিশেষ করে কার্লসেনের টেবিলে আঘাত করে ক্ষোভ প্রকাশ এবং তারপর গুকেশকে অভিবাদন জানানোর দৃশ্যটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশের জন্য এটি ছিল প্রতিশোধের মুহূর্ত

ডি গুকেশ প্রথম রাউন্ডেই কার্লসেনের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। সেই হার থেকেই ফিরে এসে এবারের এই জয় যে তাকে মানসিকভাবে অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে, তা বলাই বাহুল্য। কোচ গ্রেগোরজ গাজেউস্কি এই জয়ের পর বলেন –

“এই জয় তাকে বিশাল আত্মবিশ্বাস দেবে। একবার আপনি যদি এমন কিছু করে ফেলেন, আপনি জানেন আপনি আবার করতে পারবেন। এবং সেটাই পরিকল্পনা।”

তিনি আরও বলেন –

“এই জয়ে শুধু গুকেশের আত্মবিশ্বাসই বাড়েনি, বরং টুর্নামেন্টেও সে নতুন গতি পেয়েছে। আমরা এখন অজেয় ব্যবধানও পেরিয়ে যেতে চাই।”

পয়েন্ট তালিকায় উত্তরণ: শীর্ষ তিনে গুকেশ

এই জয়ের ফলে গুকেশ এখন ৮.৫ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছেন তৃতীয় স্থানে। কার্লসেন ও কারুয়ানা – এই দুই খেলোয়াড়ের সঙ্গে ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্ট। যার অর্থ, পরবর্তী রাউন্ডগুলোয় ভালো পারফর্ম করলে গুকেশ চ্যাম্পিয়ন হতেই পারেন।

অবস্থান খেলোয়াড় পয়েন্ট
১ম ম্যাগনাস কার্লসেন ৯.৫
২য় ফাবিয়ানো কারুয়ানা ৯.৫
৩য় ডি গুকেশ ৮.৫

ম্যাচের মানসিক চাপ ও গুকেশের সংযম

ম্যাচটি প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলেছিল, মোট ৬২টি চাল হয়। শুরুতে চাপে থাকলেও গুকেশ ধৈর্য্য হারাননি। শেষ মুহূর্তে কার্লসেনের ভুল থেকে গুকেশের যে সংযত প্রতিক্রিয়া ছিল – সেটাই একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মতো আচরণ।

অবশ্যই দেখবেন: বৃষ্টিতে ভেস্তে যেতে পারে কোয়ালিফায়ার ২! তাহলে কারা উঠবে ফাইনালে? জেনে নিন আইপিএল নিয়ম

ম্যাচ জেতার পরেও গুকেশ কিছুটা হতবাক অবস্থায় ছিলেন। ম্যাচ শেষে উঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিছুটা বিমূঢ় হয়ে, আর কার্লসেন তাকে পিঠে চাপড়ে দিয়ে বিদায় নেন।

বাকি ম্যাচগুলোর আপডেট: কারুয়ানা ও এরিগাইসি-র জয়

এদিন শুধু গুকেশই নয়, আরও বেশ কিছু চমকপ্রদ ফলাফল দেখা যায়।

🔸 ফাবিয়ানো কারুয়ানা – হিকরু নাকামুরার বিরুদ্ধে ব্ল্যাক পিসে আর্মাগেডন ড্র করেন, যা তাকে বোনাস পয়েন্টে জয় এনে দেয়।

🔸 অর্জুন এরিগাইসি – চীনের ওয়েই ই’র একটি ভুল কাজে লাগিয়ে আর্মাগেডন রাউন্ডে সাদা পিসে জয় পান।

নারী বিভাগের উত্তেজনা: হাম্পির ভুল, বৈশালীর সুযোগ

নারী বিভাগেও ড্রামা কম ছিল না।

🔹 ভারতের কোনেরু হাম্পি তার রুক ব্লান্ডার করে বসেন বৈশালী রমেশবাবুর বিরুদ্ধে। এই ভুলের সুযোগে আন্না মুজিচুক জয় ছিনিয়ে নিয়ে হাম্পির সঙ্গে শীর্ষে উঠে আসেন।

🔹 জু ওয়েনজুন, একের পর এক পঞ্চম আর্মাগেডন জয় তুলে নিয়েছেন, শেষ মুহূর্তের টাইম স্ক্র্যাম্বলে লে টিংজি-কে হারিয়ে।

তরুণ গুকেশের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল

ডি গুকেশ এই জয়ের মাধ্যমে আবার প্রমাণ করলেন, তিনি শুধু বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নন, বরং ভবিষ্যতের দাবার কিংবদন্তিও। কার্লসেনের মত একজন মহারথীকে হারানো মানেই সেই খেলোয়াড় মানসিক এবং টেকনিক্যালি কতটা দৃঢ় – সেটার বড় প্রমাণ। নরওয়ে চেস ২০২৫ এখন একেবারে জমে উঠেছে। পরবর্তী রাউন্ডগুলোয় গুকেশ যদি এই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারেন, তাহলে ভারতীয় দাবাপ্রেমীদের জন্য সামনে বড় মুহূর্ত অপেক্ষা করছে।