টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। তাঁর নেতৃত্বে দল আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে, শুধু ব্যাট হাতে নয়, বল হাতেও। সাম্প্রতিক এশিয়া কাপ থেকেই দেখা যাচ্ছে, জসপ্রিত বুমরাহকে পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারের মধ্যে তিন ওভার বল করানো হচ্ছে। এই পরিকল্পনা সফল হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও তা অব্যাহত রাখা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের আগে গম্ভীর ব্যাখ্যা করেছেন, এটি ভারতের নতুন আক্রমণাত্মক মানসিকতারই প্রতিফলন।
বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেন, “অনেকে মনে করেন আমরা শুধু ব্যাটিংয়ে আগ্রাসী। কিন্তু আমি চাই বোলিংয়েও সেই মানসিকতা দেখা যাক। পাওয়ার প্লে-তে বুমরাহকে দিয়ে তিন ওভার বল করানোও সেই পরিকল্পনার অংশ। আমরা এমন দল হতে চাই না যারা কেবল ব্যাট হাতে আক্রমণ দেখায়, বরং পুরো দল যেন আগ্রাসী চেহারা পায়।”
কোচের মতে, শুরুতে বুমরাহকে ব্যবহার করার মূল লক্ষ্য ম্যাচের প্রথম ভাগেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করা। “এশিয়া কাপে এই কৌশল ভালো কাজ করেছে। আমরা বেশিরভাগ ম্যাচেই পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে পেরেছি,” বলেন গম্ভীর। তাঁর বিশ্বাস, শুরুটা ভালো হলে মাঝের ওভারে স্পিনাররা আরও স্বাধীনভাবে বল করতে পারবেন। “মাঝে উইকেট তোলার জন্য কুলদীপ আর বরুণ আছে। শুরুতেই উইকেট পড়লে ওরা আরও কার্যকর হয়ে উঠবে,” যোগ করেন তিনি।
এই খেলোয়াড়কে গেম চেঞ্জার মনে করেন গম্ভীর
গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারতের দল এখন ভারসাম্যের ওপর জোর দিচ্ছে। আগে যেখানে আট ব্যাটার রাখা হতো, এখন অন্তত সাতজন বোলার রাখার দিকেও নজর দিচ্ছেন তিনি। তাঁর মতে, আধুনিক ক্রিকেটে বেশি অলরাউন্ডার মানে দলের জন্য বাড়তি সুবিধা। “যত বেশি অলরাউন্ডার থাকবে, বিকল্পও তত বাড়বে। আমরা এমন ক্রিকেটার তৈরি করতে চাই যারা বল-ব্যাট দুটোতেই ভূমিকা রাখতে পারে,” বলেন গম্ভীর।
এই পরিকল্পনার মূল অংশ ওয়াশিংটন সুন্দর ও অক্ষর পটেল। গম্ভীরের বিশ্বাস, আসন্ন বিশ্বকাপে এই দুই অলরাউন্ডার বড় ভূমিকা নেবেন। তাঁর মন্তব্য, “ওরা শুধু উপমহাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই কার্যকর। গত কয়েক মাসে ওয়াশির বোলিং দলকে অনেকবার রক্ষা করেছে। অক্ষরও দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করছে, দরকারে কঠিন ওভার বল করছে।” গম্ভীরের এই নতুন ভাবনা স্পষ্ট—ভারত এখন শুধু ব্যাটিং আগ্রাসনের দল নয়, বরং সম্পূর্ণ ভারসাম্যপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক এক ইউনিট, যারা প্রতিপক্ষকে প্রতিটি মুহূর্তে চাপে রাখতে চায়।
