আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২০২৬ সালের T20 বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট। ইতিমধ্যেই, প্রত্যেক দল এই মেগা টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে, এই T20 বিশ্বকাপ শুরুর আগে বাংলাদেশের ক্রিকেট (BCB) একটি ব্যাপক অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে। মূল কারণে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনা ও ক্রিকেটারদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ—বিশেষ করে পরিচালক নাজমুল ইসলামের মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্রিকেটারদের বয়কট ও পদত্যাগ দাবির যুদ্ধ।
অবশ্যই পড়ুন। বুমরাহ নন, T20 বিশ্বকাপে ভারতের আসল “ট্রাম্প কার্ড” হবেন এই বোলার, বড় ভবিষ্যৎবাণী করলেন সৌরভ গাঙ্গুলী !!
কি কারণে শুরু হলো টানাপোড়েন?
BCB-র অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন, তারপর এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশ দল T20 বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যায়, তার অর্থ বা ক্ষতিপূরণ বোর্ড নয়, ক্রিকেটারা নিজে বহন করবে, এতে বোর্ডের আর্থিক ক্ষতি হবে না। এই মন্তব্যে ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মূল অভিযোগ ছিল, এই মন্তব্য ক্রিকেটারদের মর্যাদা লঘু করে এবং এমন বক্তব্য কোনো ক্রীড়া সংগঠনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে আসে তা অনুচিত।
ক্রিকেটারদের বয়কট ও দাবিসমূহ

ক্রিকেটারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (CWAB) দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নাজমুল ইসলামকে পদত্যাগ করার দাবি জানায়। তাদের বক্তব্য—সম্মান ও মর্যাদার জন্য আপস করা যায় না এবং এমন মন্তব্য ক্রিকেটের আত্মার বিপরীতে। সেই দাবিতে ক্রিকেটাররা BPL-এর ঢাকা পর্বের ম্যাচও বয়কট করে। খেলোয়াড়রা মাঠে নামেননি এবং ম্যাচের টস-টাইমও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিরল দৃশ্য।
ক্রিকেটারদের ৫টি মূল দাবি ছিল:
১. ঢাকা ক্রিকেটের সংকট সমাধান
২. নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা
৩. নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ
৪. ক্রিকেটের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা।
৫. নারী ক্রিকেট উন্নয়নে স্পষ্ট পদক্ষেপ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পদক্ষেপ
বিপাকে পরিপূর্ণ পরিস্থিতিতে BCB দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বোর্ডের সভাপতি নিজে আপাতত সেই দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেছেন। BCB জানিয়েছে যে, এটি সংগঠনের নিয়ম (Article-31) অনুযায়ী এবং ক্রিকেটারদের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসাবে নেওয়া হয়েছে। বোর্ড এক বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে, পরিচালক হিসেবে কোনো ব্যক্তির মন্তব্য বোর্ডের স্বরূপ বা অবস্থার প্রতিনিধি নয় যদি তা বর্ধিত দপ্তরি সূত্রে প্রকাশ না পায়। তারা ক্রিকেটারদের অবদান ও মূল্যকে শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
পরিস্থিতির বিস্তার ও প্রভাব
এই সংঘাত কেবল ক্রিকেট-অফিশিয়ালদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি BCB-ক্রিকেটার সম্পর্কের গভীর সংকটকে তুলে ধরছে। ক্রিকেটাররা শুধু ঘরোয়া ম্যাচ নয়, ২০২৬ সালের T20 বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও সংকটে পড়েছে। বোর্ড এবং খেলোয়াড়দের এই বিবাদ ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট প্রস্তুতি ও মনোবলকে প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীরা এখন দেখছে যে সম্মান ও পেশাদারিত্বের প্রশ্নে বোর্ডের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও খেলোয়াড়দের মনোবল কতদূর এগোতে পারে। এই ইস্যু সমাধানে সময় এবং আরও আলোচনার প্রয়োজন বলেই মনে করা হচ্ছে।
অবশ্যই পড়ুন। মুস্তাফিজুর ব্যান হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে BCB, IPL-এর বিরুদ্ধে নিতে চলেছে কড়া পদক্ষেপ !!
