ভারতীয় টেস্ট দলে সারফরাজ খানের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। মুম্বাইয়ের এই প্রতিভাবান ব্যাটার নভেম্বর ২০২4-এর পর থেকে আর কোনো টেস্ট খেলেননি। মাত্র ছয়টি টেস্টে ৩৭১ রান, ৩৭.১০ গড়, তিনটি ফিফটি এবং একটি সেঞ্চুরি—এমন পরিসংখ্যান থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক সাবেক ক্রিকেটার।
সাবেক ভারতীয় ওপেনার ও বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া মনে করেন, সারফরাজ মূলত “ধারণার লড়াইয়ের” শিকার। তার মতে, নির্বাচকদের মাঝে হয়তো এমন একটি বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে সারফরাজ সুইং–সহায়ক পরিবেশে বা অতিদ্রুত বোলারদের বিপক্ষে তেমন সফল হতে পারবেন না। বিশেষত SENA (South Africa, England, New Zealand, Australia) দেশগুলোতে তার সক্ষমতা নিয়ে একটি সন্দেহ কাজ করছে।
চোপড়া বলেন, “যে ধারণার ভিত্তিতে তাকে বাইরে রাখা হচ্ছে, সেটি যাচাই করার সুযোগও দেওয়া হয়নি। কাউকে ‘ফেল’ বলতে হলে অন্তত তাকে মাঠে সুযোগ তো দিতে হবে। কিন্তু সারফরাজকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এখন আবার দলে জায়গাটাও খুঁজে পাওয়া কঠিন।”
অবহেলার পাত্র হয়ে উঠেছেন সারফরাজ খান
আকাশ চোপড়া একই ভিডিওতে ইয়াশস্বী জয়সওয়ালের বিষয়েও মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিলকে টি–টোয়েন্টিতে ওপেনার হিসেবে বেশি ব্যবহার করায় জয়সওয়াল নিয়মিত একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না। অথচ ২৩ ম্যাচে ৭২৩ রান, ৩৬.১৫ গড় এবং ১৬৪+ স্ট্রাইক রেট—এই পরিসংখ্যান জয়সওয়ালকে যে ভারতের শীর্ষ টি–টোয়েন্টি ব্যাটারদের একজন হিসেবে প্রমাণ করে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
চোপড়ার মতে, জয়সওয়ালকে বর্তমানে সাদা বলে না খেলানো অনুচিত। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল দলে জয়সওয়াল থাকবেনই। তার ভাষায়, “সূর্যকে কিছুক্ষণের জন্য মেঘে ঢেকে রাখা যায়, কিন্তু বেশিক্ষণ নয়। জয়সওয়ালকে দলে না রাখা অন্যায়।”
এছাড়া তিনি রাজস্থান রয়্যালসের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন। চোপড়ার মতে, জয়সওয়াল এমন একজন খেলোয়াড় যাকে কেন্দ্র করেই একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারে। প্রয়োজন হলে ক্যাপ্টেন্সিও দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো প্লেয়ার–সেন্ট্রিক। যদি জয়সওয়ালকে অধিনায়ক করা হলে দল আরও শক্তিশালী হয়—তাহলে তা অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত।”
সব মিলিয়ে, সারফরাজ–জয়সওয়াল বিতর্ক ভারতীয় ক্রিকেটের বর্তমান নির্বাচন নীতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আগামী মাসগুলোতে নির্বাচন প্রক্রিয়া কোন পথে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
