CAB’র অনন্য সম্মান, রিচা ঘোষের হাতে উঠছে সোনার ব্যাট ও বল

ভারতের ঐতিহাসিক মহিলা বিশ্বকাপ জয়ের নায়িকা রিচা ঘোষকে (Richa Ghosh) এবার বিশেষভাবে সম্মান জানাতে চলেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (CAB)। শনিবার ইডেন গার্ডেনে এক জমকালো…

IMG 20251107 004121

ভারতের ঐতিহাসিক মহিলা বিশ্বকাপ জয়ের নায়িকা রিচা ঘোষকে (Richa Ghosh) এবার বিশেষভাবে সম্মান জানাতে চলেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (CAB)। শনিবার ইডেন গার্ডেনে এক জমকালো অনুষ্ঠানে বাংলার এই তারকাকে দেওয়া হবে সোনার প্রলেপযুক্ত ব্যাট ও বল — ভারতের মহিলা ক্রিকেটে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ। এই বিশেষ উপহারটির স্বাক্ষর করবেন ভারতের দুই কিংবদন্তি — সৌরভ গাঙ্গুলি এবং ঝুলন গোস্বামী। সিএবি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিচার অসাধারণ পারফরম্যান্সই ভারতের প্রথম মহিলা বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম চালিকা শক্তি ছিল। তিনি আট ইনিংসে ১৩৩.৫২ স্ট্রাইক রেটে ২৩৫ রান করেন, যা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের রেকর্ড।

সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি জানিয়েছেন, “রিচা ঘোষ শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের গর্ব। বিশ্ব মঞ্চে তিনি প্রতিভা, সংযম এবং লড়াইয়ের মনোভাবের এক দুর্দান্ত উদাহরণ স্থাপন করেছেন। এই সোনার ব্যাট ও বল আমাদের তরফে তাঁর অবদানের এক ছোট্ট স্বীকৃতি। তিনি দেশের প্রতিটি তরুণ ক্রিকেটারের অনুপ্রেরণা।” ২২ বছর বয়সী শিলিগুড়ির এই ক্রিকেটার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২৪ বলে ৩৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন, যা ভারতের জয়ে বড় ভূমিকা নেয়। তাঁর মারকাটারি ব্যাটিংয়ে টুর্নামেন্টে আসে ১২টি ছক্কা — যা এক মহিলা বিশ্বকাপে সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ড, ডিয়ানড্রা ডটিনের সঙ্গে যৌথভাবে।

রিচা ঘোষকে সম্মান যাচ্ছে CAB

ঋদ্ধিমান সাহার পর শিলিগুড়ির দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক উইকেটরক্ষক হিসেবে রিচা এখন ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল মুখ। তাঁর অর্জনের ঝুলিতে আছে মহিলা বিশ্বকাপ, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, মহিলা প্রিমিয়ার লিগ, এশিয়ান গেমসের স্বর্ণ এবং কমনওয়েলথ গেমসের রৌপ্য পদক। সিএবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রিচার সাফল্যের পথচলা শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক, যা বাংলার বহু তরুণীকে ক্রিকেটে আসার প্রেরণা দেবে। শিলিগুড়ির কন্যা রিচা ঘোষের ক্রিকেট যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র আট বছর বয়সে। তাঁর বাবা মানবেন্দ্র ঘোষ, যিনি একসময় ক্লাব স্তরের ক্রিকেটার এবং পরবর্তীতে আম্পায়ার হন, মেয়ের প্রতিভা খুব ছোটবেলাতেই চিনে ফেলেছিলেন।

মাত্র ১২ বছর বয়সে রিচা জায়গা করে নেন বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে, এরপর অনূর্ধ্ব-২৩ এবং মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিনিয়র দলে অভিষেক ঘটে। শুরুতে তিনি ছিলেন এক অলরাউন্ডার — ঝুলন গোস্বামীর সঙ্গে নতুন বলে বোলিং করতেন, পাশাপাশি ব্যাটও হাতে নিতেন। পরবর্তীতে উইকেটকিপিংকে নিজের প্রধান ভূমিকা হিসেবে বেছে নেন। রিচা ঘোষের এই উজ্জ্বল সাফল্য শুধুমাত্র বাংলার নয়, গোটা দেশের গর্বের প্রতীক — যা প্রমাণ করে যে প্রতিভা, অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাস থাকলে স্বপ্ন সত্যি হয়।

Read Also; ‘ফাইনালে পাকিস্তান থাকলে জিতত না ভারত!’ আফ্রিদির এই মন্তব্যে তুমুল সমালোচনা