২০২৫ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) জন্য ছিল এক হতাশার গল্প। আগের মরশুমে শিরোপা জয়ের পরে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স সেই উচ্চতায় উঠতে পারেনি। দলের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় পুরো মরশুম জুড়ে তাল হারিয়েছিলেন, আর তার প্রভাব পড়ে পয়েন্ট তালিকায়। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়েও মরশুম শেষ করতে হয়েছিল অষ্টম স্থানে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় গৌতম গম্ভীরের অনুপস্থিতি—যিনি আগের মৌসুমে দলের পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন।
সব মিলিয়ে কেকেআরের ব্যর্থতা তাদের ম্যানেজমেন্টকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, এবং ২০২৬ সালের নিলামের আগে বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়কে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে এই ছাড়া খেলোয়াড়রা যে আইপিএল বাজারে নজর কাড়বেন, তা নিশ্চিত। অভিজ্ঞতা, বিস্ফোরক খেলা এবং ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা—সব মিলিয়ে তারা যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য বড় সম্পদ হতে পারেন। নিচে এই তালিকার তিনজন গুরুত্বপূর্ণ তারকার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১) আন্দ্রে রাসেল — KKR অধ্যায়ের ইতি, কিন্তু চাহিদা কমবে না
আইপিএলের ইতিহাসে আন্দ্রে রাসেলের নাম সবসময়ই অগ্নিগর্ভ পারফরম্যান্সের সঙ্গে জড়িত থাকবে। বহু বছর ধরে কেকেআরের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন তিনি। যদিও গত কয়েক মৌসুমে ধারাবাহিকতা কমে গিয়েছিল, তবুও ২০২৫ সালে তিনি তার পুরোনো ছন্দের ঝলক দেখিয়েছিলেন। ব্যাট হাতে নিচের দিকে নেমে দ্রুত রান তুলতে পারেন, বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট এনে দিতে পারেন—অর্থাৎ তিনি T20 ক্রিকেটে একটি প্রস্তুত-প্যাকেজ।
কেকেআর তাকে ছেড়ে দিলেও, অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি এমন একজন অভিজ্ঞ, বড় ম্যাচের খেলোয়াড়কে দলে নিতে আগ্রহী থাকবে। বিশেষ করে যেসব দল ম্যাচের শেষ কয়েক ওভারকে আরও শক্তিশালী করতে চায়, তারা রাসেলের জন্য বিড যুদ্ধে নামবে। একটি মিডল-অর্ডার ফিনিশার বা ব্যাকআপ অলে-রাউন্ডার হিসেবে রাসেলের মূল্য এত সহজে কমবে না।
২) কুইন্টন ডি কক — অভিজ্ঞতা, স্টাইল, ম্যাচজেতানো ইনিংস
প্রোটিয়া উইকেটকিপার-ব্যাটার কুইন্টন ডি ককের আইপিএলে অভিজ্ঞতা দীর্ঘ দিনের। একসময় তিনি লিগের সবচেয়ে ধারাবাহিক ওপেনারদের একজন ছিলেন। ২০২৫ মরশুমে কেকেআরের জার্সিতে মাত্র ৮ ম্যাচে ১৫২ রান করে নিজের মান অনুযায়ী খেলতে পারেননি। তবে একজন বড় মঞ্চের খেলোয়াড়কে এক মৌসুম দিয়ে বিচার করা যায় না।
T20 ক্রিকেটে তিনি পাওয়ারপ্লেতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। দ্রুত রান, শক্তিশালী স্ট্রোক-প্লে ও বিপুল অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে তিনি নিলামে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেন। যে কোনো দল যদি একজন নির্ভরযোগ্য ওপেনার বা উইকেটকিপার-ব্যাটার খুঁজে থাকে, তবে ডি কক তাদের প্রথম পছন্দ হতে পারে।
৩) ভেঙ্কটেশ আইয়ার — বড় দামের ব্যর্থতা নয়, ফিরে আসার যোগ্য সম্ভাবনা
গত কয়েক বছরে উদীয়মান ভারতীয় অলে-রাউন্ডারদের মধ্যে অন্যতম নাম ভেঙ্কটেশ আইয়ার। কলকাতা নাইট রাইডার্স ২০২৫ সালের মেগা নিলামে তাকে ২৩.৭৫ কোটি টাকা দিয়ে দলে নিয়েছিল, যা সেই নিলামের অন্যতম বিস্ময় ছিল। তিনি আগের দুই মৌসুমে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন—২০২৩ সালে ৪০৪ রান এবং ২০২৪ সালের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তবে ২০২৫ সালে তার পারফরম্যান্স তেমন নজর কাড়েনি।
তবুও আইপিএলে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ওপেনিং কিংবা মিডল-অর্ডার—দুটি ভূমিকাতেই খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। এছাড়া তার মাঝেমধ্যে ওভার করা কেকেআরকে বাড়তি সুবিধা দিত। নিলামে এবার তাকে পেতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ থাকবে—কারণ একজন ভারতীয় অলে-রাউন্ডার সর্বদা দলের ব্যালেন্স ঠিক রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। যেকোনো দল নতুন করে তাকে গড়ে তোলার সুযোগ পেলে তা লুফে নেবে।
